জ্যাকসন হোল সম্মেলন

সেপ্টেম্বরে সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দিলেন জেরোম পাওয়েল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং রাজ্যের জ্যাকসন হোলে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বার্ষিক সম্মেলনে দেয়া এক বক্তৃতায় সেপ্টেম্বরে সুদহার কমানোর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ার জেরোম পাওয়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং রাজ্যের জ্যাকসন হোলে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বার্ষিক সম্মেলনে দেয়া এক বক্তৃতায় সেপ্টেম্বরে সুদহার কমানোর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ার জেরোম পাওয়েল। তিনি বলেছেন, ‘শ্রমবাজারের ঝুঁকির কথা বিবেচনা নিয়ে এবং আমাদের নীতিগত অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে সুদহারের পরিবর্তন করা জরুরি।’ খবর রয়টার্স ও এপি।

জেরোম পাওয়েলের এ বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। পাওয়েলের সুদহার কমানোর ইঙ্গিতের পর পরই ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকরা তাদের আগের পূর্বাভাস পরিবর্তন করতে শুরু করেন। ওয়াল স্ট্রিটের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ফেড বৈঠকে সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর সম্ভাবনা ৭৫ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এরপর বৈশ্বিক পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড ও ডলারের বিনিময় হার কমেছে।

পাওয়েল তার বক্তব্যে বলেন, ‘যদিও কর্মসংস্থান হার স্থিতিশীল আছে, তবে কর্মসংস্থান বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অস্বাভাবিক এ পরিস্থিতি কর্মসংস্থানের জন্য ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে। আর সংশ্লিষ্টদের এ ঝুঁকির সম্মুখীন বেশ দ্রুতই হতে হবে।’

সুদহার কমানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন জেরোম পাওয়েল। এ চাপ সাম্প্রতিক সময়ে আরো বেড়েছে। একদিকে তাকে দেশের কর্মসংস্থান বাজারের শ্লথগতি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার বেশি রয়েছে।

ফেডের কোনো কোনো গভর্নর ও অর্থনীতিবিদের মতে, এখনই সুদহার কমালে তা যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে আরো জোরালো করে তুলবে।

সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে পাওয়েলকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম চ্যালেঞ্জটি হলো ফেডের অভ্যন্তরের বিভাজন। কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফরি শ্মিট ও ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রধান বেথ হ্যাম্যাকের মতো ফেডের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় এখনই সুদহার কমানো উচিত হবে না। অন্যদিকে ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার ও সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালির মতো কর্মকর্তারা কর্মসংস্থান বাজারে বিদ্যমান দুর্বলতা থেকে পরিত্রাণের জন্য দ্রুত সুদহার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে পাওয়েলের সাম্প্রতিক বক্তব্য ক্রিস্টোফার ওয়ালারদের মতামতের দিকেই ঝুঁকেছে।

দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ মোকাবেলা করে ফেডের স্বাধীন নীতিনির্ধারণের সক্ষমতাকে অক্ষুণ্ণ রাখা। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ফেডের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন এবং সুদহার দ্রুত কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নেই এবং সুদহার কমলে সরকারের ঋণ পরিশোধের খরচ কমবে। ট্রাম্পের এ চাপ ফেডের রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যদিও পাওয়েলকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সহজ হবে না। তার পরও রাজনৈতিক চাপ ফেডের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প শুধু পাওয়েলের ওপরই চাপ দেননি, বরং ফেড গভর্নর লিসা কুককেও পদত্যাগ করাতে চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, যদি কুক পদত্যাগ না করেন, তবে তিনি তাকে বরখাস্ত করবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হুমকি ফেডের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত। কারণ ফেড বোর্ডের সদস্যদের অসদাচরণের মতো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বরখাস্ত করা যায় না।

পাওয়েলের সামনে এখন শুধু সুদহার কমানো বা না কমানোর সিদ্ধান্তই নয়, বরং কীভাবে সিদ্ধান্তটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে সে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সাবেক ফেড ভাইস চেয়ারম্যান রিচার্ড ক্লারিডার বলেছেন, ‘সুদহার কমানোর ঘোষণা দিলে ফেডকে পরিষ্কারভাবে বোঝাতে হবে যে এটি এককালীন পদক্ষেপ নাকি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। যদি বার্তাটি স্পষ্ট না হয়, তবে তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।’

আরও